মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

নবীন ভোটাররা চান স্মার্ট-কর্মঠ-সৎ মেয়র, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (ততৃীয় মেয়াদে) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মে মাসে। নির্বাচন কমিশন আগামী ২৫ মে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষনার পর পর সিটি এলাকায় হবু প্রার্থীদের মধ্যে যেমন প্রাণচাঞ্চল দেখা দিয়েছে তেমনি ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। বিশেষ করে নবীন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহটা যেন একটু বেশি লক্ষ্য করা গেছে। গাজীপুর সিটির বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার ঘুরে নতুন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে তাদের অনভূতি ও চাহিদার কথা। অধিকাংশ নবীন ও তরুণ ভোটারদের পছন্দ মেয়র পদের প্রার্থীকে হতে হবে স্মার্ট, যুগোপযোগী শিক্ষিত ও কর্মঠ। আবার তাদের অনেকের পছন্দ সৎ ও মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থী।

গাজীপুর সিটির করপোরেশনের ১৬ ওয়ার্ডের ভোটার ও গাজীপুর সিটি কলেজের মানিবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুজন ও নাঈম হোসেন ইমন জানান, আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এ নির্বাচনে আমরা ভাল, সৎ-নিষ্ঠাবান মেয়র চাই। যিনি হবেন যুগোপযোগী ও স্মার্ট। যার মধ্যে থাকবে আধুনিক বিশে^র চিন্তা-চেতনা। যিনি নাগরিকদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রেখে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনা ও দেখার মানসিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

একই ওয়ার্ডের তরুণ ভোটার ও গাজীপুর সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হৃদয় জানান, আমরা মাদকসেবী, ঘুষখোর ও জুয়াড়ী এবং বয়সের ভারে ন্যূয কোন ব্যাক্তিকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা চাই কর্মঠ ও পরিশ্রমী মেয়র। যিনি মাদক-ঘুষ-জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন। যিনি পরিচ্ছন্ন ও অধুনিক সিটির জন্য কাজ করবেন আমরা তাকেই মেয়র হিসেবে পেতে চাই।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন পেশায় একজন তরুণ চা-বিক্রেতা। কেমন প্রার্থী চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নির্বাচন দলীয়ভাবে হলেও ভোট দেব প্রার্থীদের নিজস্ব যোগ্যতা দেখেই। শহরের ভুরুলিয়া এলাকার রিকশাচালক নুরু মিয়া বলেন, ‘ভাই, আমাগোা গরিবের লাইগা সব দলই হুমান। সবাই টেহা খরচ করে নির্বাচন করে নিজের ধনী অওনের লাইগা। জনগণের জন্য কেউ ভাবে না। তবুও ভোটটা দিতে অইব কিচুডা অইলেও ভালো মাইনসেরে দেইহা।’

১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউলতিয়া এলাকার নবীন ভোটার রিকশা চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, সড়কবাতি, ড্রেনেজ-ব্যবস্থা একেবারেই খারাপ। এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হয়নি। মার্কা নয়, এলাকার উন্নয়নে যে বেশি কাজ করতে পারবে তাকেই আমরা ভোট দেব।’ একই প্রত্যাশার কথা বলেন দক্ষিণ সালনা এলাকার বাসিন্দা মুদি দোকানী মো. খলিলুর রহমান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ২৮নং ওয়ার্ডের ভোটার গগন রহমান ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নবীন ভোটার তানজিম আল মিঠুন জানান, জীবনের প্রথম ভোট সৎপাত্রে দান করতে চাই। যিনি এলাকার উন্নয়নের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন তাকেই আমরা ভোট দেব। যিনি ক্লিন ও গ্রীন নগরী উপহার দিতে পারেবন তাকেই আমরা ভোট দেব।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাতলাখালি এলাকারতরুণ ভোটার রাজিব সরকার তিনি বলেন, ‘আমাদের এই এলাকা খুবই অবহেলিত। পাকাতো দুরের কথা কাচা রাস্তাও নেই। এখানে নাগরিক-সুবিধা নেই বললেই চলে। যিনি আমাদের সুখে-দুঃখে থাকবেন তাঁকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।’

১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামিহা হোসেন বলেন, ‘ এবার সিটি নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেব। আমি প্রার্থীর সততা, ব্যক্তিত্ব ও প্রগতিশীল চিন্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই ভোট দেব।’

১৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তরুণ ভোটার মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘আমরা সব সময় যাকে কাছে পাব তাকেই ভোট দেব।’ মানুষের কথা আগে থেকেই যিনি ভেবে আসছেন এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবেন বলেন একই এলাকার আরে কনবীন ভোটার খলিলুর রহমান।

গাজীপুরে নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এন কামরুল হাসান জানান, সর্ববৃহৎ এ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে সর্বশেষ তথ্যমতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১১লক্ষ ৮৪হাজার ৩৬৩টি। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার হলেন ৫লাখ ৯৪হাজার ৫৩৩জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা হলো ৫ লাখ ৮৯হাজার ৮১২জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার সংখ্যা হলো ১৮জন। পাঁচ বছর আগে গত সিটি নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১১লাখ ৩৭হাজার ৭৩৬জন। ভোটের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে গত সিটি নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ৪৬হাজার ৬২৭জন।

ইতোমধ্যে আমরা ভোটের প্রাথমিক পর্যায়ের সকল প্রস্ততি যেমন ভোটার সংখ্যা, কেন্দ্র ও ভোট কক্ষ নির্ধারণ, ভোট কর্মকর্তা নিরূপন ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করেছি। নির্বাচনের নির্দেশনা মোতাবেক বাকি কাজ আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সুসম্পন্ন করতে পারবো।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com